
সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও লালমনিরহাট - ২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদের ছোট ভাই মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ও তার এক মাত্র ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনায়নপত্র জমা দিয়েছেন। পেয়েছেন বৈধতাও। এ ছাড়া লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মনোনায়ন জমা দিয়েছেন তারিকুল ইসলাম নামে আরেক প্রার্থী। তবে মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনার শীর্ষে আছেন চাচা ও ভাতিজা। পারিবারিকভাবে মিল না থাকায় প্রায়ই সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই পরিবার।
লালমনিরহাট ২(আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ সংসদ সদস্য হওয়ার পর আপন ছোট ভাই মাহবুবুজ্জামান আহমেদ টানা ১০ বছর কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলে পারিবারিকভাবে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেইা দ্বন্দ্ব এখনও চলমান। এর পরেই দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল হকের পক্ষে কাজ করলে ছোট ভাই মাহবুবুজ্জামান আহমেদের সাথে দ্বন্দ্ব আরও বাড়ে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় নির্বাচনের মঞ্চে তিনি ভাইকে নিয়ে নানান বিস্ফোরক মন্তব্য করে আলোচনার শীর্ষে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পদ ধরে রাখতে মনোনায়ন জমা করেছেন সাবেক মন্ত্রীর ছোট ভাই বর্তমান চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ। তবে এবার চাচার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে মনোনায়নপত্র জমা দিয়েছেন ভাতিজা নিজেই । তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সসম্পাদক সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ। জেলাজুড়ে এখন একটাই আলোচনা- কে জিতবে, চাচা নাকি ভাতিজা?
নির্বাচনের আগেই বর্তমান সংসদ সদস্যের লোকদের নানা হুমকির বার্তা শোনা যায়, এমন দাবি আদিতমারী উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইমরুল কায়েস ফারুকের।
মাহাবুবুজ্জমান আহমেদ বলেন, সাবেক মন্ত্রীর ভাই হলেও মন্ত্রীর সাথে আমার তেমন কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তা দলীয় শীর্ষ নেতারাসহ জেলাবাসীও জানেন। জনগণ ভোট দিয়ে আমাকে দীর্ঘ দিন ধরে দায়িত্ব দিয়ে আসছেন। এবারও জনগণের দাবি পূরণে প্রার্থী হতে মনোনায়ন পত্র জমা করেছি। আশা করছি, বিপুল ভোটে আমি বিজয় হবো।
সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ বলেন, জনগণ তরুণ নেতৃত্ব চায়। নতুনত্ব চায়। জনগ দাবি পূরণে চেয়ারম্যান পদে মনোনায়ন পত্র জমা দিয়েছি।’ জনগণ আমার পাশে আছে। সৃষ্টিকর্তা সম্মান দেওয়ার মালিক। এ ছাড়াও বাবা-মায়ের দোয়া সব সময় আমার সঙ্গে রয়েছেন। তাই আমার বিশ্বাস, আমি অনেক ভোটে বিজয় হব। আমার চাচা আমার জনপ্রিয়তাকে ভয় পেয়ে সবখানে আমার পরিবারের নামে বদনাম করে। কার জনপ্রিয়তা কত সেটা ভোটের মাঠেই দেখা যাবে।
রির্টানিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহবুবুর রহমান বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনায়ন জমাদানের শেষ দিনে প্রতিদ্বন্দ্বিরা মনোনায়ন জমা করেছেন। এই প্রথম অনলাইনে বাসা বা অফিসে বসে মনোনায়নপত্র জমা করছেন প্রার্থীরা।
আরও পড়ুন: