ময়মনসিংহে দুই দিনে কারখানার ৯০ শ্রমিক অসুস্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ১২:১৮ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রোববার | আপডেট: ১২:২৯ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রোববার

ময়মনসিংহের ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় এল এসকোয়্যার লিমিটেড পোশাক কারখানায় দুই দিনে ৯০ শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) কারখানা বন্ধ রেখে শ্রমিকদের কাউন্সেলিং ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ভালুকা শিল্প-পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ারুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রেখে শ্রমিকদের কাউন্সেলিং ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের উপস্থিতি কম ছিল।

এর আগের দিন শনিবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের কারখানার মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার কারখানাটির অন্তত ৭০ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

চিকিৎসকরা গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার কথা বলেছেন। জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি শনিবার থেকে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে পোশাক কারখানাটির নানা ত্রুটির বিষয়।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় এল এসকোয়্যার লিমিটেড পোশাক কারখানায় অন্তত ৭০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের অধিকাংশই নারী। সেদিন সকাল আটটার দিকে কাজে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই শ্রমিকদের কারো মাথা ঘুরাচ্ছিল, কারও বমি বমি লাগছিল, কারও শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল, অনেকের পূর্ণ চেতনা ছিল না। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অসুস্থ শ্রমিকদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেদিন কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়।

শনিবার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে ভেতরে গেলে অনেকে অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। তখন ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীনূর খান।

ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাসানুল হোসেন বলেন, শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার লক্ষণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে তারা গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরইমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে।

কারখানার এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শনিবার সকালে কাজ করতে এলেও তাদের কাজ করতে দেওয়া হয়নি। কারখানায় প্রবেশের পর অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসার জন্য ভিড় করেন অনেকে। কারখানার ভেতরে মাইকিং করে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছিল। কাউকে কাজ করতে হবে না বলা হচ্ছিল। এছাড়া পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি খাওয়া, কারখানা থেকে যাওয়ার পর বিশ্রাম নেওয়া, মুঠোফোন বেশি না দেখা, অসুস্থবোধ করলে চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়াসহ নানা করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছিল।

গত ৩১ আগস্ট কারখানায় কাজ করা অবস্থায় সাবিনা আক্তার (৩৭) নামের এক অপারেটর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পোশাক কারখানার মেডিকেল সেন্টার থেকে তার চিকিৎসা করা হয়।

কারখানাটির এক শ্রমিক বলেছেন, সেদিন সাবিনার বমি বমি লাগছিল, রক্তচাপের সমস্যা হচ্ছিল। তিনবার মেডিকেল সেন্টারে যাওয়ার পর তাকে ছুটি দেওয়া হয়। পরদিন রোববার বাসায় মারা যান সাবিনা।

ওই শ্রমিক জানান, সাবিনা আক্তারের বাড়ি সিলেটে। জুলাই মাসে অপারেটর পদে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন।